উচ্চ পরিবহন খরচ ও পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত রিসাইক্লিং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। এতে যেমন পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি ব্যাটারি তৈরির মূল উপাদান সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।
উল্লেখ্য, সাধারণত বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক পণ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্যাটারিগুলোই ড্রাই সেল; যেমন টিভির রিমোট ও এসি রিমোটের ত্রিপল ‘এ’ ব্যাটারি, দেয়াল ঘড়ি ও টেবিল ঘড়ির ব্যাটারি, টর্চলাইটের পেন্সিল ব্যাটারি।
ভারতের ‘উৎপাদকের বর্ধিত দায়বদ্ধতা’ (ইপিআর) নীতি অনুসারে, ড্রাই সেল প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করতে হয়। আগামী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে তিন বছর আগে বিক্রি হওয়া ড্রাই সেলের অন্তত ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র বেশ ভিন্ন।
প্যানাসনিক এনার্জি ইন্ডিয়ার দেয়া তথ্যমতে, ভারতের বাজারে ব্যবহৃত এসব ব্যাটারির সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের হার বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম। বিভিন্ন পাইলট প্রকল্পে এ হার ১-২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
প্রতিনিধিরা জানান, ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার প্রধান দুটি বাধা হলো পণ্যের কম দাম ও গ্রাহকদের সচেতনতার অভাব। ব্যাটারিগুলোর দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এগুলো অন্য বাসা-বাড়ির ময়লার সঙ্গেই ফেলে দেয়। ফলে দোকানে ফেরত দেয়ার কোনো তাগিদ তারা অনুভব করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাই সেল রিসাইক্লিং করতে জটিল ও ব্যয়বহুল রাসায়নিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো বাজার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পুরনো ব্যাটারি সংগ্রহ করতে না পারলে দেশটির সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে।
ভারতের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য হিসেবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৫ হাজার টনে।
সঠিক উপায়ে রিসাইক্লিং না হলে এসব ব্যাটারি বর্জ্য পোড়ানো হবে অথবা মাটির নিচে ফেলা হবে। এতে বাতাস, মাটি ও পানি দূষিত হয়ে জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের হুমকিতে পড়বে। পাশাপাশি দেশটির ভেতরে রিসাইক্লিং ব্যবস্থার উন্নতি না হলে অন্যান্য দেশ থেকে চড়া দামে খনিজ আমদানির ওপর নির্ভরতা থেকে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।